/

শিক্ষা ক্যাডারের আলোচিত ২৯ কর্মকর্তাকে বদলি

thereporter

প্রকাশিতঃ 10:46 am | February 22, 2018

প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ব্যাপক আলোচনায় থাকা শিক্ষা অধিদফতর ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন কার্যালয়ের ২৯ জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে আছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ উপপরিদর্শক মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. মো. আশফাকুস সালেহীন, বিদ্যালয় পরিদর্শক এটিএম মঈনুল হোসেন, মাউশির পরিচালক ড. মো. সেলিম।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সিনিয়র সহকারী সচিব ফাতেমা তুল জান্নাতের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়— বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) এসব কর্মকর্তাকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ বেতন ও বেতনক্রমে পাশে বর্ণিত পদ ও কর্মস্থলে বদলি করা হলো।

বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের রাজবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, যশোর, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, জয়পুরহাট, ফেনী, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, শরীয়তপুর, ভোলা, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, বগুড়া, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, বরিশাল, পটুয়াখালী, ফরিদপুরের বিভিন্ন কলেজে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, এনসিটিবিতে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার বই ছাপার কাজ হয়। এসব কাজে কমিশন হাতিয়ে রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন অনেকে। বোর্ডে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমতি, কেন্দ্র, কেনাকাটায় বড় ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। বৈধভাবে বছরে ছয়টি বোনাস পান। ডিআইএ কর্মকর্তারা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদশর্নের নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। সম্প্রতি একজন কর্মকর্তা ঘুষসহ দুদকের অভিযানে আটক হয়েছেন। মাউশির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অনৈতিক সুবিধা নিতেই বছরের পর বছর ‘খুঁটি’ গেড়েছেন।

অভিযুক্তদের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের মূল পদ সরকারি কলেজ। তারা ক্লাসে শিক্ষার্থী পড়াতে আগ্রহী নন। প্রশাসনিক পদে থেকে অবৈধ সুবিধা নিতেই সরব। চাকরিবিধি অনুযায়ী এক পদে তিন বছরের বেশি থাকার বিধান নেই। এ বিধিকে পাত্তাই দেননি তারা। চাকরিতে যোগদান করেই প্রশাসনিক পদে যুগের পর যুগ পার করেছেন কেউ কেউ। একই পদে বহাল থাকতে পদোন্নতি পর্যন্ত নেননি, এমন কর্মকর্তাও রয়েছেন।
প্রশ্ন ফাঁস, মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের উচ্চমানসহকারী ঘুষের টাকাসহ ধরা পড়ায় সমালোচনা ঝড় ওঠে। সংসদে ও রাজপথে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ওঠে। ইমেজ সংকটে পড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বাস্তবতায় বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকর্তার বদলির পরে প্রশাসন ক্যাডারের বিতর্কিত কয়েকজন কর্মকর্তাকেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এ তালিকায় অতিরিক্ত সচিব থেকে সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন বলে শিক্ষামন্ত্রীর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র: বিডি জার্নাল