/

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতিকৌশল: গণিত

thereporter

প্রকাশিতঃ 6:47 am | February 16, 2018

আহসানুর হক সৈকত তালুকদারঃ গণিতের নাম শুনে আমাদের অনেকের গায়ে জ্বর আসলেও চাকরি পেতে হলে গণিত সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকতেই হবে। কারণ প্রায় সব চাকরির পরীক্ষাতেই গণিতের উপর প্রশ্ন করা হয়। বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেও বড় একটা অংশ জুড়ে আছে গণিত। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় গণিত বিষয়টি দুইটি অংশে বিভক্ত। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা। দুই অংশ মিলে ৩০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।
গাণিতিক যুক্তি অংশে বাস্তব সংখ্যা, ল.সা.গু, গ.সা.গু, শতকরা, সরল ও যৌগিক মুনাফা, অনুপাত ও সমানুপাত, লাভ ক্ষতির উপর ৩ মার্ক, বীজগাণিতিক সূত্রাবলি, বহুপদী উৎপাদক, সরল ও দ্বিপদী সমীকরণ, সরল ও দ্বিপদী অসমতা, সরল সহসমীকরণের উপর ৩ মার্ক, সূচক ও লগারিদম, সমান্ত ও গুনোত্তর ধারার উপর ৩ মার্ক, রেখা, কোণ, ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজ সংক্রান্ত উপপাদ্য, পিথাগোরাসের উপপাদ্য, বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য, পরিমিতির উপর ৩ মার্ক, সেট, বিন্যাস ও সমাবেশ, পরিসংখ্যান ও সম্ভাব্যতার উপর ৩ মার্ক মিলিয়ে মোট ১৫ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।

মানসিক দক্ষতা অংশে ভাষাগত যৌক্তিক বিচার, বানান ও ভাষা, যান্ত্রিক দক্ষতা, স্থানাঙ্ক সম্পর্ক, সংখ্যাগত ক্ষমতা, সমস্যা সমাধান ইত্যাদি বিষয়ের উপর ১৫ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।

গণিতে ভালো করতে হলে নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। যত বেশি অনুশীলন করবেন আপনি তত বেশি দক্ষ হবেন। তবে একদিনে সব অধ্যায় পড়ার চিন্তা মাথায় আনা যাবে না। প্রতিদিন একটা বা দুইটা অধ্যায় নির্বাচন করুন। সেই অধ্যায়ের খুঁটিনাটি জানার চেষ্টা করুন।

সমাধানগুলো মুখস্ত না করে বুঝার চেষ্টা করুন। না বুঝলে অন্য কারো সাহায্য নিন। কারণ পরীক্ষায় হুবহু কমন নাও পেতে পারেন। কিভাবে সমস্যার সমাধান হলো এটা পরিস্কারভাবে না বুঝে শুধু মুখস্ত করলে পরীক্ষার হলে ঘাবড়ে যেতে পারেন। আর বুঝা থাকলে ভিন্ন ধাঁচের সমস্যা আসলেও আপনি মাথা খাটিয়ে সেটা সমাধান করতে পারবেন।

প্রিলি পরীক্ষায় ছোট ছোট ম্যাথ বেশি আসে। তাই অনুশীলনের সময় ছোট ম্যাথগুলার উপর গুরুত্ব দেবেন বেশি। স্টেপ বাই স্টেপ সমাধান করার পাশাপাশি শর্টকার্টে সমাধান করা শিখবেন এবং শর্টকার্ট অংশটি ম্যাথটির পাশে ফাঁকা স্থানে লিখে রাখবেন। তাতে পরবর্তী সময়ে দ্রুত খুঁজে পাবেন।

সমাধানগুলো শুধু দেখে যাবেন না, খাতায় লিখবেন। দেখে গেলে যেটা হয় সেটা হচ্ছে পরবর্তী সময়ে ঐ ম্যাথটা দেখলেই মনে হবে এটা তো আমি পারিই কিন্তু সমাধান করতে গেলে দেখবেন আটকে যাচ্ছেন বা ভুল হচ্ছে। তাই অন্তত একবার লিখে সমাধান করবেন। তাছাড়া লিখে সমাধান করলে সেটা মনেও গেঁথে যায়।

যেহেতু পরীক্ষার হলে আপনি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন না তাই সবসময় ক্যালকুলেটর ছাড়া ম্যাথ করার চেষ্টা করবেন। আগে থেকে ক্যালকুলেটর ব্যবহার না করার অভ্যাস গড়ে তুললে পরীক্ষার হলে আপনি নিশ্চিতভাবেই অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন।

পড়ার সময় সূত্রগুলো বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কিছু একটা খাতায় টুকে রাখুন। আপনার প্রস্তুতি শেষ হলে দেখবেন, খাতাটি একটি সুন্দর নোটে পরিণত হয়েছে। যেটা পরীক্ষার আগের দিন একনজরে দেখে আপনি আনন্দে পরীক্ষার হলে যেতে পারবেন।

পরীক্ষায় সবশেষে গণিত অংশের উত্তর করা উচিত। কারণ একটা গণিতের উত্তর করার সময়, আপনি অন্যান্য বিষয়ের দুইটি প্রশ্নের উত্তর করতে পারবেন। প্রথমেই কোনো গণিতের উত্তর না মিললে আমরা অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ায় অন্যান্য বিষয়ের জানা উত্তরও ভুল করে ফেলি।

ম্যাথ করতে গিয়ে উত্তর না মিললে পরীক্ষার হলে সেটা নিয়েই পড়ে থাকবেন না। পরের প্রশ্নে চলে যাবেন। কারণ সব প্রশ্নের মান সমান। তাই অযথা কোনো প্রশ্নকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করার দরকার নেই।

সহজ যোগটাও প্রশ্নের ফাঁকা জায়গায় লিখে করবেন। কারণ পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীরা নানা চাপে থাকেন। ফলে সহজ যোগও ভুল হয়ে যায়।

লেখক: ৩৬তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত  ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত